ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ঢাকা

  • আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৪ ০১:১০:০০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৪ ০১:১০:০০ পূর্বাহ্ন
অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য ঢাকা
* রাজধানীজুড়ে বেড়েছে খুন, চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি  * রাজধানীতে দুই মাসে  হত্যাকাণ্ড ৬৮, গ্রেফতার ২৫৪ জন * ঘটে যাওয়া অপরাধ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশ্লেষণ * পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী * অনিরাপদ রাতের ঢাকা, ঘটছে নানা অপরাধ * অপরাধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট


রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রীতিমতো অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে রাজধানী ‘ঢাকা’। প্রতিনিয়ত রাজধানীজুড়ে ঘটে চলেছে চুরি-ডাকাতি, গণছিনতাই, লুট, খুনসহ অপরাধ। মূলত ছাত্র-জনতার কঠোর আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে অদ্যবধি এমন কোনো অপরাধ নেই যা ‘ঢাকা’ সংঘটিত হচ্ছে না। এককথায় বলতে গেলে রাজধানীজুড়ে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় রীতিমতো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। কোনোভাবেই পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানী ঢাকার অদূরে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিম্মি করে ডাকাত দলের সদস্যরা। যদিও তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় আতঙ্ক কাটছে না নগরবাসির।
অনিরাপদ রাতের ঢাকা, ঘটছে নানা অপরাধ: রাত বাড়তেই অশান্ত হয়ে উঠছে রাজধানী ঢাকা। প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ও খুনের মতো নানা অপরাধ। বাদ যাচ্ছে না দখল ও চাঁদাবজির ঘটনা। এ ছাড়া আধিপত্য বিস্তার, এলাকার নিয়ন্ত্রণ কিংবা তুচ্ছ ঘটনা থেকে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন গ্রুপ। আর এতেই অশান্ত হয়ে উঠছে রাতের ঢাকা, জনমনে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক। পুলিশ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও রাতের ঢাকায় অনিরাপদ বোধ করছেন রাজধানীর বাসিন্দারা। বিশেষ করে রাজধানীর অলিগলিতে ধারালো অস্ত্র হাতে ছিনতাইকারীরা ওত পেতে থাকে। কাউকে একা পেলেই আক্রমণ করে বসে। শুধু রাতে নয়, প্রকাশ্য দিবালোকেও ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছিনতাইকারীরা দলবদ্ধভাবে অটোরিকশা নিয়ে নগরজুড়ে ঘুরে বেড়ায়।
জানা গেছে, রাজধানীজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা হলেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে। চুরি-ডাকাতির ঘটনা নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুনের ঘটনাও বেড়েছে। লেক, নদী বা খোলা মাঠ থেকে উদ্ধার হচ্ছে লাশ। যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান, র‌্যাব-পুলিশের তৎপরতা কোনও কিছুই কাজে আসছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এতে সন্ধ্যার পরই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না নগরে বসবাসরত মানুষজন। গত ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর শেখেরটেকের ৬ নম্বর সড়ক দিয়ে কোচিং সেন্টার থেকে বাসায় ফিরছিলেন হাসিব। ব্যস্ত সড়কেই ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে চার জন ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। আশপাশে লোকজন থাকলেও এগিয়ে আসেনি কেউ। যাবার সময় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধরও করে। হাসিব জানান, ছিনতাইকারীরা হঠাৎ করে তার পেটে চাপাতি ঠেকিয়ে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে। একইদিন রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে হাফেজ কামরুল হাসান নামে এক যুবক নিহত হন। ১৬ ডিসেম্বর হাতিরঝিল এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মো. রাকিব নামে এক গার্মেন্টকর্মী নিহত হন। এই ঘটনার একদিন আগেই একই এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হন হাবিবুল্লাহ হাবিব নামে আরেক যুবক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। একইদিন রাত ১১টায় আসাদ গেট এলাকায় যানজটে আটকে আছে অসংখ্য গাড়ি। এর মধ্যে তিন যুবক চাপাতি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিকারের খোঁজে। একপর্যায়ে একটি প্রাইভেটকারের জানালা থেকে ছোঁ মেরে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তারা। মাজহারুল ইসলাম মহসিন নামে এক ব্যক্তি সেই দৃশ্য ভিডিও করে ছেড়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গত ১১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে দারুসসালাম থানার মাজার রোডে শিমুলতলা আবাসিক এলাকার বাসায় ফিরছিলেন সংবাদকর্মী আসাদুজ্জামান। অফিসের গাড়ি থেকে নেমে গলির মধ্যে ঢুকতেই তিন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে তাকে। তিনি ধস্তাধস্তি করে কোনোভাবে অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে মুক্তি পান। আসাদুজ্জামান জানান, সাধারণত ছিনতাইকারীরা আটকালে বা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করলে টাকা ও মোবাইল চেয়ে থাকে। কিন্তু তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ হয়েছে। আক্রমণকারীরা ছিনতাইকারী নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে তার ওপর আক্রমণ করেছিল, তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। পুরনো ঢাকার বলধা গার্ডেনের সামনে গত ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাইয়ের শিকার হন ‘এখন টিভি’র সংবাদকর্মী জাহিদ হাসান। তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে তিনি নারিন্দার বাসা থেকে রিকশাযোগে অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন। চাপাতি নিয়ে এক মোটরবাইকে তিন আরোহী ছোঁ মেরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
রাজধানীতে দুই মাসে হত্যাকাণ্ড ৬৮, গ্রেফতার ২৫৪ জন: রাজধানীতে রাজনীতির  আধিপত্য বিস্তার কিংবা পূর্বশত্রুতা-জমি দখলসহ নানা অপরাধে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। এছাড়া পেশি শক্তির প্রয়োগ দেখাতে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতেও দ্বিধা করছে না এতটুকু। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে খুনের শিকার হয়েছেন ৫৮৩ জন, অক্টোবর মাসে ৩৯৯ জন ও নভেম্বরে ৩৩৭ জন। ২০২৩ সালের এই তিন মাসে খুনের ঘটনা আরও কম ছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুন হয়েছিলেন ২৩৮ জন, অক্টোবর মাসে ২৫৮ জন এবং নভেম্বর মাসে ২২৭ জন।  এই একই সময়ে রাজধানী ঢাকায় চলতি বছরের নভেম্বরে খুনের মামলা হয়েছে ৫৫টি, অক্টোবরে ৫৭টি ও সেপ্টেম্বরে ১৪৮টি। ২০২৩ সালের এই সময়ে খুনের ঘটনায় মামলা ছিল যথাক্রমে নভেম্বরে ১৭টি, অক্টোবরে ১৯টি ও সেপ্টেম্বরে ১২টি। তবে ডিএমপির মুখপাত্র ও ডিসি মিডিয়া মোহাম্মদ তালেবুর রহমানের মতে, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে রাজধানীতে নভেম্বরে ২৭টি ও অক্টোবরে ২১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে ৪৭টি খুনের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির আরেক কর্মকর্তা। ডিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে যে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়, তা মামলার ভিত্তিতে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুরনো অনেক ঘটনায় খুনের মামলা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যানে মামলার সংখ্যা বাড়তি হিসাবে নথিবদ্ধ হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের চেয়ে চলতি ডিসেম্বর মাসেই অনেক খুনের ঘটনা ঘটেছে। ১৮ ডিসেম্বর যশোরের শার্শা সীমান্ত এলাকা থেকে তিন জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন ঢাকার অদূরে পূর্বাচলের একটি লেক থেকে দুই তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ফরিদপুরের সালথায় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও মুন্সীগঞ্জ থেকে পৃথক দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজবির হোসেন শিহানকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সীমান্ত। দু’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৪ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই ছাত্রের নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। যদিও পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, দু’টি ঘটনাতেই আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। কালিয়াকৈরের ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায়ও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঢামেক সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর মগবাজার ও সায়েদাবাদ এলাকায় পৃথক ঘটনায় ছিনতাইকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিন জন নিহত হয়েছেন। গত ১০ ডিসেম্বর খিলগাঁও ও কেরানীগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এক কেয়ারটেকার ও এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর কদমতলী ও বাড্ডায় পৃথক ঘটনায় তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। এরআগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে গিয়ে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। দেশের চার শতাধিক থানায় হামলা হয়েছে তখন। এতে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ডিমোরালাইজড হয়ে গেছে। সেই ধকল কাটিয়ে তাদের নতুন করে সাজানো হচ্ছে। আগে যারা অপারেশনাল দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে।
অপরাধ নিয়ে যা বলছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে মূলত সামাজিক, পারিবারিক এবং রাজনৈতিক কারণে এসব হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক কারণের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব হত্যাকাণ্ড বেশি ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা অপরাধীদের পার পাওয়ার প্রবণতা তৈরি করছে। তাই পেশি শক্তিকেই বেছে নিচ্ছে অনেকে দাবি সমাজ বিশ্লেষকদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, যেসব প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি মানুষকে অপরাধমুখী করছে, সেগুলোকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যদি অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধ প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে শত্রুতার জায়গাগুলো আরো বেড়ে উঠবে। তবে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা থামাতে কঠোর শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে মনে করে অপরাধ বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মুখপাত্র এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, রাজধানীতে সন্ধ্যার পর থেকে প্রো-অ্যাক্টিভ পুলিশিংয়ের জন্য পেট্রোলিং ও ভিজিলেন্স বাড়ানো হয়েছে। সারা দেশেই পুলিশ অ্যাক্টিভ রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ঘটনাতেই পুলিশ কুইক রেসপন্স করছে। আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান এবং গ্রেফতার অভিযান চলছে। তবে ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, যেসব ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সহযোগীদের তথ্যও নেয়া হচ্ছে। এছাড়া আগে থেকেই পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল বা গ্রেফতারের পর জেলে ছিল, তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।
অপরাধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট: রাজধানীতে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো জঘন্য অপরাধ ঠেকাতে তৎপরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, অবৈধ মালামাল উদ্ধার ও ছিনতাই প্রতিরোধে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত স্থানে নিরাপত্তামূলক বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গত ৪ নভেম্বর থেকে বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডিএমপি। ঢাকা মহানগরীর হাজারীবাগের বসিলা, কোতোয়ালির বাবুবাজার, শ্যামপুরের পোস্তগোলা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড, ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার, সবুজবাগের বাসাবো রাস্তায় (কমলাপুর), দারুস সালামের গাবতলী, খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট, উত্তরা পশ্চিম থানার আব্দুল্লাহপুর ব্রিজ ও কামারপাড়া ও তুরাগের ধৌড় ব্রিজ নামক স্থানে ডিএমপির বিশেষ এ চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পালা রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স